নির্বাচনের পর আম জনতার ভাবনা

সোমবার, জানুয়ারি ৭, ২০১৯ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Share Button

সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কিছু বিছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাতে সমাজে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে উপরস্থ সকল পর্যায় চলছে আম-জনতা অর্থাৎ সাধারণ জনগণের ভাবনা। কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিশাল একটি মহল বলছেন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেউ কেউ এও বলছেন স্বাধীনতার পর থেকে এ যাবৎকালে এমন নির্বাচন দেখেননি যা দেখছেন গত ৩০ এ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে আওয়ামী-লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ৪র্থ বারের মত সরকার গঠন করতে চলেছেন। ইতিমধ্যে শপথগ্রহণ সহ মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় থাকবেন নবীন ও প্রবীনরা। তাঁদের সমন্বয়ে-ই দেশ এগিয়ে যাবে। বিতর্কিতদের ঠাঁই হবে না মন্ত্রিপরিষদে।। তাই সবার দৃষ্টি এখন মন্ত্রিসভার দিকে। জাতির ভাবনা কেমন হবে এবারের মন্ত্রিসভা? কারা থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায়? রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে আমলাপাড়া সহ চায়ের কাপে সর্বত্র আলোচনায় টানা তৃতীয় বারের দেশ পরিচালনায় দায়িত্ব নিতে যাওয়া আওয়ামী-লীগ সরকারের কারা মন্ত্রী-পতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন? নবনির্বাচিত এমপিদের মধ্যেও কৌতূহল কে ডাক পাচ্ছেন বঙ্গভবনে? দল ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন এবারের নতুন মন্ত্রিসভায় চমক দেখাবেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা চার (০৪) বারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বয়সের ভারে ন্যুব্জদের স্থান হবে না এবারের মন্ত্রিসভায়। নবীন-প্রবীনদের সমন্বয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটি মন্ত্রিসভা উপহার দিবেন তিনি। সরকার যখন দেশ নিয়ে ভাবছেন, দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের কথা ভাবছেন ঠিক তখন-ই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে এবং ৩০ এ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয় বলে বিএনপি জামায়াত জোট দাবি করছেন। অন্যদিকে সরকার দলীয় নিতাকর্মীরা বলছেন, সকল পর্যায়ের নির্বাচন ও জনসমর্থন হারিয়ে পুনরায় ইসির কাছে নির্বাচন ভিক্ষা চাইছে বিএনপি জামায়াত জোট। যা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসি ও আওয়ামী-লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাঁরা আরো বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোটের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অল্পের জন্য শূন্যে কোটায় পৌঁছায় নি। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা শূন্যের কোটায় পৌঁছাবে বলেও তাঁরা বিশ্বাস করেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এমন অভিযোগ করতে করতে তাঁরা নালিশ পার্টি নামেও পরিচিত লাভ করেছেন। এটা তাঁদের বদ-অভ্যাস! কাজেই তাঁদের নিয়ে ভাবনার সময় আওয়ামীলীগের নেই বলেও জানান তাঁরা। অন্যদিকে সাধারণ জনগণ বলছেন, দুই প্রধান দলের ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে দেশে চলছে, গুম, খুন, হত্যা ও অমানবিক নির্যাতন। মনে হয় যেনো দেশে মায়া-মমতা, নৈতিকতা এবং আন্তরিকতার বিলুপ্তি ঘটেছে। যার ফলে দেশে বিদ্যমান রাজনীতির প্রতি বেশিরভাগ মানুষেরই ঘৃণা চলে আসছে। চোখ খুল্লেই মানুষ হয় লাশ না-হয় কেউ ধর্ষিতা কিংবা নির্যাতিতা কাউকে দেখতে পায়! মানুষের জীবনের চেয়ে তাঁদের কাছে ক্ষমতায় যাওয়া-ই বড় বিষয় ছিলো। তা এখন দিনের আলোর মতই পরিষ্কার। । তাই অনেকেই মনে করেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই কারণেই বিএনপি জামায়াত জোটের ভরাডুবি হয়েছে। সদ্য ঘটে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতীতে সকল নির্বাচনের তুলনায় সহিংসতার ঘটনা কম ঘটেছে৷ যা গনতন্ত্র ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। অন্যদিকে কিছু মানুষরূপী অমানুষের কারণে তা তলানিতে নামতেও দেরি করবে না! নোয়াখালী সূবর্ণচরে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কারণে চার (০৪) সন্তানের জননী এক মাকে কি বিভৎস ভাবে স্থানীয় ৮-১০ জন আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা গণধর্ষণ করেছে। তা দেখলে ও শুনলে গা শিউড়ে উঠে। স্বাধীন দেশে এমন ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে ঘটনা যাঁরাই ঘটিয়ে থাকুক কেউ ছাড় পাবে না। জনগণও চায় তাঁদের এমন ভাবে শাস্তি দেওয়া হোক যেনো ভবিষ্যৎতে কেউ এমন ঘৃণিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটাতে না পারে। তাই সরকার ও বিরোধীল এবং সর্বপরি সমস্ত রাজনীতিবিদ সহ সকল পর্যায়ের মানুষ যদি এর বিপক্ষে অবস্থান না নেন, তাহলে দেশের মানুষ গণতন্ত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। গণতন্ত্র নয় মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা আগে ।

Share Button