ঝিকরগাছায় সুদের মহাজনদের অত্যাচারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেক পরিবার

শনিবার, জুলাই ১৩, ২০১৯ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Share Button

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধিঃ ”সুদ” সমাজের একটি অভিশাপ। দিনে দিনে গরীব অসহায় নিন্ম আয়ের মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই সুদের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। বাড়ি, ঘর, জায়গা জমি, আত্মীয়, পরিবার পরিজন ফেলে সুদের দেনার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেক পরিবার।


যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নে পাওয়া গেল এমন একটি গ্রাম। যে গ্রামে খুঁজে পাওয়া গেল এমন কিছু পরিবার যে পরিবার গুলো সুদের দেনায় জর্জরিত। কেউ কেউ বাড়ি ছাড়া। কেউ কেউ সহায় সম্বল সব কিছু হারিয়ে অন্যের দারস্ত হয়েছে।গ্রামের নাম রাজবাড়িয়া, কয়েকজন সুদে মহাজনের অত্যাচারের এমন হৃদয় বিদারক রহস্য বেরিয়ে এসেছে।


তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐ রাজবাড়িয়া গ্রামের জিন্নাহ নামের এক ব্যক্তি এলাকার গরীব অসহায় দুস্থ ব্যক্তি বা পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মোটা অংকের টাকা সুদের মাধ্যমে ধার দিয়ে থাকে। যা কিনা প্রতি লাখে ১ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমন আকাশ ছোঁয়া চড়া সুদের ভারে সুদের টাকা ধার নেওয়া পরিবার গুলো দিনে দিনে নিস্ব হয়ে যাচ্ছে।


দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর সুদে নেওয়া টাকার মুল টাকা পরিশোধ তো দুরের কথা বরং সুদের টাকাই পরিশোধ করতে হিমশিম খেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে এই গ্রামের অসহায় পরিবার গুলো। গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর জীবন জীবিকার হালচাল এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানার পর অভিযুক্ত জিন্নার নাম উঠে আসে প্রথমে।


রাজবাড়িয়া গ্রামের ছোট বাজারের মধ্যে কথা হয় তার সাথে। জানতে চাওয়া হয় তার সুদের ব্যবসা এবং তার এত টাকার উৎস কোথা থেকে এলো। সাংবাদিক দেখে ক্যামেরার সামনে জিন্নাহ কিছুটা ভয় পেয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও বলে দেয় তার এত টাকার যোগান দাতাদের নাম। 


জিন্নাহ জানায়, এই সুদের ব্যবসায় সে শুধু মাত্র একজন আদায়কারী হিসেবে কাজ করে।টাকার যোগানদাতা কামাল হোসেন আর আনোয়ার হোসেন আনার নামে দুই সহদর। উভয়ই রাজবাড়িয়া গ্রামের হাজী আমির হোসেনের ছেলে এবং জিন্নাহ একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। 


অভিযোগকারী ভুক্তভোগীরা হলো শওকত-পিতা মুনসুর আলী, রফিকুল-পিতা লুৎফর সরদার, মোমিন-পিতা বাবর আলী, জাহাঙ্গীর-পিতা রাজ্জাক সরদার, উজ্জল-পিতা রওশন, সবুর খান-পিতা সায়েদ আলী, ইস্রাফিল-পিতা হাজী নূর ইসলাম সহ অনেকে। সুদে মহাজন আনোয়ার হোসেন আনারের সাথে কৌশলে কিছুটা কথা হলেও সাংবাদিক দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কামাল হোসেন। 


প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুংকার দিয়ে দ্রুত সরে পড়ে কামাল হোসেন। সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে তোড়জোড় শুরু করে কিছুটা। হুমকি দিতে থাকে পালিয়ে যাওয়া পরিবার গুলোর স্ত্রী সন্তানদের উপর। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর উপর প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি অব্যাহত ছিলো সুদে মহাজনদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, আজ আমাদের ভিটাবাড়ি কিছুই নাই।


সুদে মহাজনরা নিজেরা থেকেই আমাদের জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে গেছে তবুও এখনও সুদে আসলে তারা অনেক দেনা রয়েছেন। কথা হয় বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তির ফুফুর সাথে, তিনি বলেন, এলাকার সুদে মহাজনরা সুদের টাকার চাপ দেওয়ায় পালিয়েছে পরিবারের সব লোকজন। আজ তারা কোথায় গেছে জানিনা বলে নিরবে কাঁদতে থাকেন তিনি। ভুক্তভোগী অসহায় পরিবার গুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সুদে মহাজনদের চড়া সুদ আর তাদের অত্যাচারে পালিয়ে যাওয়া পরিবার গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মাছুয়ার রহমান বলেন, আমি শুনেছি আমার এলাকার অনেক পরিবার অভাবের তাড়নাই এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছে কিন্তু যখন আমার এলাকার সুদে মহাজনদের বিষয়টি যখন সামনে আসলো আমি হতবাক হয়ে গেছি। এখন আইন আছে প্রশাসন আছে তারা দেখা যাক কি ব্যবস্থা নেয়। এইরকম সুদে মহাজনদের শাস্তি হওয়া দরকার।


ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী মজুমদার এর নিকট রাজবাড়িয়া গ্রামের সুদে মহাজনের অত্যাচার ও তাদের সুদের দেনার ভারে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিষয়টি আসলেই দুঃখ জনক। যা শুনলাম সেটা সত্য হলে কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। এখনও কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ দেয়নি তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

Share Button