এমবিবিএস’ ডাক্তার এইচএসসি পাশ করেছন মানবিক থেকে

সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
Share Button

এইচএসসি পাসে এমবিবিএস চিকিৎসক হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাছুদুল হক। মাগুরায় তার ভুল অস্ত্রোপচারে অসংখ্য রোগী মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মাগুরার ক্লিনিক মালিক সমিতি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাছুদুল হক নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন মাগুরায় অস্ত্রোপচারসহ নানা অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চিকিৎসক নন। নিজেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি পিজিটি, সিডিডি সার্জন এ ধরনের যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন মাছুদুল হক। আসলে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাস তিনি। পরে ১৫ বছর রাশিয়ায় থেকে একটি ডিপ্লোমা সনদ জোগাড় করেন। দেশে ফিরে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা প্রকার চিকিৎসা শুরু করেন। তার ভুল অস্ত্রোপচারে অসংখ্য রোগী মারা গেছেন।

আরও জানা যায়, ২০০৫ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এক রোগীর খাদ্যনালিতে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে নাড়ি কেটে গেলে ক্ষতস্থানে পলিথিন দিয়ে বেঁধে দেন মাছুদুল হক। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসকরা পুনরায় অস্ত্রোপচার করে ওই পলিথিন উদ্ধার করেন। তখন মাছুদুল হককে পলিথিন ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

ওই সূত্র ধরে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ২০০৬ সালে ড্যাবের সদস্য পদ নেন ও বিএমডিএস চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন মাছুদুল হক। যার নম্বর-এ-৪৩২১৪। এই নিবন্ধনের পর তিনি মাগুরা ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এখনো সেখানে কর্মরত। পাশাপাশি বিগত সময়ের অপকর্মে উপার্জিত অর্থে মাগুরা সদর হাসপাতালের পূর্বদিকে ১০তলা ভবন নির্মাণ করেন। সেখানে তৈরি করেছেন নিজস্ব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। সেখানে সব রোগীর অস্ত্রোপচার করছেন তিনি।

তারা আরও বলেন, ২০১২ সাল থেকে শুরু করে গত সাত বছরে মাছুদুল হককে ভুয়া চিকিৎসক তুলে ধরে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিক চিঠি দিয়েছি আমরা। কিন্তু কোনো সুফল হয়নি। বরং মাছুদুল হকের অপচিকিৎসা আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছুদুল হকের প্রকৃত নাম শহিদুল হক। মাছুদুল হকের এক আত্মীয় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করার পর মারা যান। শহিদুল মৃত ওই আত্মীয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে মাছুদুল হক সেজে রাশিয়া গিয়ে ডিপ্লোমা করেন। নব্বই দশকের শুরুতে অনৈতিক পথে ড্যাবের মাধ্যমে ডক্টরস কাউন্সিলের সদন নিয়ে মাছুদুল হক সেজে এমবিবিএস চিকিৎসক বনে যান।

ক্লিনিক মালিক সমিতির অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর বলেন, এ ব্যাপারে মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক তদন্ত টিম গঠন করে মাছুদুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুদুল হক বলেন, ‘আমি বিএমডিএস থেকে নিবন্ধন নিয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছি। আমি সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য উপস্থাপন করব।’

Share Button