অবশেষে রংপুরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ

মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০১৯ ১:২৩ অপরাহ্ণ
Share Button

অবশেষে রংপুরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। মঙ্গলবার বিকেল, পোনে ৬টার দিকে রংপুরের পল্লী নিবাসেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এরশাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

রংপুরের কালেক্টরেট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ তাঁর মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে বিকেল ৪টায় পল্লী নিবাসে পৌঁছান। সেখানে মরদেহ পৌঁছানোর পর, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপরই, সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সর্বস্তরের জনগণ। এরশাদকে সমাহিত করার সময় কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঢাকার সেনানিবাস কবরস্থানে এরশাদের দাফন হওয়ার কথা থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে এরশাদকে রংপুরেই সমাহিত করা হলো।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি রংপুরের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে অনুমতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ। এরশাদ পত্নী আরও জানান, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি রংপুরের গণমানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের আবেগ ও অনুরোধেই রংপুরে পল্লীবন্ধুকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গেল রবিবার, সকাল পোনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। এরপর, রবিবার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন সোমবার, বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত শেষে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো তাদের নেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কাকরাইল থেকে এরশাদের মরদেহ বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নেয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর, মঙ্গলবার রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দর থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টারে রংপুরে পৌছে দুপুর পোনে ১২টার দিকে।রংপুর জেলা কালেক্টরেট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এরশাদের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেয়।

সেখানে জানাজা শুরুর আগে থেকেই এরশাদকে রংপুরে দাফনের দাবিতে বিশৃঙ্খলা শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এমনকি, জানাজার পর অনেকক্ষণ মরদেহবাহী গাড়ীটি আটকে রাখা হয় মাঠেই। বহু চেষ্টার পর তার মরদেহ নেয়া হয় এরশাদের বাড়ি পল্লী নিবাসে। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের বৈঠকে রংপুরেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Share Button