অন্য জনের নিবন্ধন সনদ ও যাবতীয় তথ্য ব্যবহার করে প্রভাষক পদে চাকুরি। অভিযোগ আমলে নেয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
Share Button

(গফরগাঁও, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি): ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার টাঙ্গাব ফাজিল মাদরাসায় অন্য ব্যক্তির নিবন্ধন সনদ ও যাবতীয় তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে চাকুরি করছেন মাহমুদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক। অভিযুক্ত মাহমুদুল ইসলাম ২০১৫ সাল থেকে অদ্যাবধি  টাঙ্গাব  ফাজিল মাদরাসায় আরবি প্রভাষক পদে চাকুরি করে বেতনভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন।

তিনি   একই উপজেলার গয়েশপুর ফাজিল মাদরাসায় চাকুরিরত আরবি প্রভাষক মাহমুদুল হাসানের সকল সনদ ও তথ্য বেআইনিভাবে ব্যবহার করে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে মূল সনদধারী ব্যক্তি মাহমুদুল হাসান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে জানিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহবুবুর রহমান সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে মাদরাসায় অভিযোগ তদন্তের জন্য    তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্তকারীদল পাঠান

সোমবার প্রতিনিধিদল তদন্তে এসে  নিয়োগসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র দেখে    অভিযোগের সত্যতা পান। কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভব হলো তা খুঁজতেে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  টাঙ্গাব ফাজিল মাদরাসার   একাধিক শিক্ষক জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেনের সাথে  বড়   অঙ্কের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অভিযুক্ত মাহমুদুল ইসলামের পিতা অত্র মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

শুধু তাই নয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগসাজশ করে   একই নিয়োগে একসাথে আটজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন  সদ্য অবসরপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম।নিয়োগ পরিক্ষায় উত্তীর্ণদের বাদ দিয়ে টাকা নিয়ে অন্য প্রার্থীদের তাদের জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সদ্য অবসরপ্রাপ্ত একজন সহকারী শিক্ষক বলেন এই মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ আপাদমস্তক একজন দূর্নীতিবাজ লোক। এলাকার বহু ছেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকুরি না দিতে পারায় তার প্রতি এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। আমরা তার এহেন দূর্নীতির প্রকৃত বিচার দাবি করি এবং  অনৈতিকভাবে অন্যের সনদে চাকুরি নেওয়ায়   তার ছেলে মাহমুদুল ইসলামের  উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।           

Share Button